skip to Main Content
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা

SSC 2021 Assignment বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা

মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের SSC 2021 Assignment উত্তরপ্রস্তুত করতে হবে। ১২ সপ্তাহে মোট আটটি  অ্যাসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর এসএসসি প্রার্থীদের ২০২১ দ্বারা প্রস্তুত করতে হবে। অর্থাৎ,  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা বিষয়ে মোট আট সপ্তাহের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

SSC 2021 Assignment  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা উত্তরের সম্পূর্ণ নম্বর হবে ৫০। বাকি ৫০ নম্বরের জন্য এমসিকিউ পরীক্ষাও নেওয়া হবে। যদি এমসিকিউ পরীক্ষা না হয়, তবে ইতিহাসের বিষয়ের ফলাফল কেবল মাত্র অ্যাসাইনমেন্টে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হবে। অন্যান্য বাধ্যতামূলক বিষয়ের ফলাফল জেএসসি পরীক্ষার ফলাফল থেকে বিষয়কে মাস্ক করে প্রস্তুত করা হবে।

মানবিক গ্রুপের SSC 2021 Assignment

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা এর অ্যাসাইনমেন্ট ১ম সপ্তাহে নির্ধারিত হয়েছে। প্রথম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট শেষে, ইতিহাসের বিষয়কে ২য় সপ্তাহের জন্য প্রদান করা হবে। এছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতার অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর বাকী সপ্তাহের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রতিটি অ্যাসাইনমেন্ট একটি পৃথক কভার পৃষ্ঠা যোগ করে স্কুলে জমা দিতে হবে।

আপনি যদি আপনার পাঠ্যপুস্তকটি ভালভাবে পড়েন এবং আপনার অ্যাসাইনমেন্ট প্রস্তুত করেন, তাহলে আপনার 50 নম্বর নিশ্চিত হবে এবং বাকি 50 নম্বরগুলিও ভালভাবে প্রস্তুত করা হবে। সুতরাং কোনওভাবেই কার্যভারের জন্য নির্ধারিত অধ্যায় বা অংশ না পড়ে অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করা হবে না। আপনি অন্যদের দ্বারা করা অ্যাসাইনমেন্টগুলি অনুলিপি করবেন না। বরং আপনি অন্যদের অ্যাসাইনমেন্ট থেকে ধারণা নিতে পারেন। তাহলে আসুন দেখে নেওয়া যাক বাংলাদেশের ইতিহাস এবং বিশ্ব সভ্যতা ১ম সপ্তাহের কোন অধ্যায়টি নির্ধারিত হয়েছে এবং নিয়োগের জন্য কী প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। এখানে আপনি প্রতি সপ্তাহে এসএসসি ইতিহাস অফ বাংলাদেশ এবং বিশ্ব সভ্যতা অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান পাবেন।

SSC 2021 Assignment 1st Week Assignment- “মানব জীবনে ইতিহাস”

SSC 2021 Assignment Humanities
SSC 2021 Assignment Humanities

অরিজিনাল অ্যাসাইনমেন্টটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুণ।

SSC 2021 1st Assignment Answer

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা

প্রিয় এসএসসি ২০২১ সালের পরীক্ষা। আমরা আপনার জন্য এসএসসি ২০২১ বাংলাদেশের ইতিহাস এবং বিশ্ব সভ্যতা অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর প্রস্তুত করছি। আপনিও আপনার উত্তর তৈরি করতে থাকুন।

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ব্যাখ্যাঃ

ইতিহাস শব্দটির উৎপত্তি ‘ইতিহ’ শব্দ থেকে এসেছে। যার অর্থ ‘ঐতিহ্য’। এই ঐতিহ্যকে এক প্রজন্ম থেকে আরে প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয় ইতিহাস। প্রকৃতপক্ষে মানব সমাজের অনস্ত ঘটনাপ্রবাহই হলো ইতিহাস।

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি জনবহুল এবং উন্নয়নশী দেশ। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে স্বাধীনত অর্জন করে একটি স্বাধীন রাস্ট্র হিসাবে আবির্ভূত হয়।

বাংলাদেশের সভ্যতার ইতিহাস চার সহস্রাব্দেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে। এর ইতিহাস হচ্ছে আঞ্চলিক আধিপত্যের জন্য হিন্দ ও বৌদ্ধ সাম্রাজ্যসমূহের মধ্যকার দ্বন্দ্ব ও প্রতিযোগিতার।

৬ষ্ঠ থেকে ৭ম শতাব্দীতে এ অঞ্চলে ইসলামের আগমণ ঘটে। ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুতে বখতিয়ার খিলজীর নেতৃত্বে সামরিক বিজয়ের পাশাপাশি শাহজালালের মতো সুন্নিদের নিরলস প্রচেষ্ঠায় ধীরে ধীরে ইসলাম এদেশে প্রভাশালী ধর্ম হয়ে ওঠে। চতুর্দশ শতাব্দী থেকে এই অঞ্চল শাহী বাংলা হিসেবে সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ কর্তৃক শাসিত হয়। যা দেশের অর্থতৈতিক সমৃদ্ধি ঘটে। পরবর্তীতে এই অঞ্চলটি মুঘল মাম্রাজ্যের অধীনে আসে এবং মুখল মাম্রাজ্যের সবচেয়ে ধনী প্রদেশ হিসাবে পরিনত হয়। এ সময় রাজধানী শহর ঢাকার জনসংখ্যা এক মিলিয়ন ছাড়িয়ে যা।

অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুতে মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের পর বাংলা নবাবদের অধীনে নবা সিরাজউদ্দৌলার হাতে ন্যস্ত হয়। তারপর ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এ অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করে।

১৯৪৭ সালে বাংলা ও ভারতের পৃথখীকরণের মাধ্য বাংলাদের সীমানা প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের ফলে এই অঞ্চলটি পাকিস্তান রাষ্টের অংশ হিসেবে পূর্ব পাকিস্তানে পরিণত হয়।

১৯৭১ সালের মার্চ মাসে রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধে পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বিজয় অর্জন করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। স্বাধীনতার পর নতুন বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি দুর্ভিক্ষ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ব্যাপক দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সামরিক অভ্যূথানের মত অসংখ্য সমস্যার মুখোমুখি হয়। ১৯৯১ সালে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পরে বাংলাদেশে আপেক্ষিক শান্তি স্থাপিত হয় এবং দ্রুত অর্থনেতিক অগ্রগতির দিকে অগ্রসর হতে থাকে। বর্তমানে মানবসম্পদ ও পোশাকশিল্পের অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় অর্থনেতিক শক্তিকে পরিণত হয়েছে।

সুতরাং ইতিহাস হচ্ছে মানব সভ্যতার বিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন কর্মকান্ডের ধারাবাহিক ও সত্ত্যনিষ্ঠ বিবরণ।

ইতিহাস রচনার উপকরণ ব্যাখ্যাঃ

যেসব তথ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে ঐতিহাসিক সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব, তাকেই ইতিহাসের উপকরণ বা উপাদান বলা হয়। ইতিহাসের উপাদানকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ লিখিত উপাদান অন্যটি অলিখিত উপাদান

লিখিত উপাদানঃ

ইতিহাস রচনার লিখিত উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাহিত্য, বৈদেশিক বিবরণ, দলিলপত্র আরও অনেক কিছু। বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি সাহিত্যকর্মে তৎকালীন সময়ের কিছু তথ্য পাওয়া যায়। যেমনঃ বেদ, কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র, কলহনের রাজতরঙ্গিনী, মিনহাজ-উ-সিরাজের তবকাত-ই-নাসিরী ইত্যাদি।

সাতিহত্য উপাদানঃ

ক) জীবনী গ্রন্থঃ সন্ধ্যাকর নদীর- রামচরিত, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী ইত্যাদি।

খ) দেশীয় সাহিত্যঃ কলহনের রাজতরঙ্গিনী, কালিদাসের মেঘদূত ইত্যাদি।

গ) বিদেশীদের বিবরণীঃ মেগাস্থিনিসের ইত্তিকা,

ঘ) প্রাচীন ধর্মগন্থঃ রামায়ণ, মহাভারত ইত্যাদি।

ঙ) অন্যান্যঃ প্রাচীন পান্ডুলিপি, সন্ধি-চুক্তি, ইত্যাদি।

অলিখিত উপাদানঃ

যেসব বস্তু বা উপাদান থেকে আমরা বিশেষ সময়, স্থান বা ব্যক্তি সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক তথ্য পাই, সেইসব বস্তু বা উপাদানই পত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন মূলত অলিলিথ উপাদান।

ক) লিপিমালাঃ সরকারি লিপি: যুদ্ধবিগ্রহ, ভূমিদান, রাজার আদেশ, রাজার নাম, রাজ্য জয়, ধর্ম বিশ্বাস ইত্যাদি সম্পর্কে জানা যায়।

বেসরকারি লিপি: এগুলো মূলত পাথরে মন্দিরের গায়ে লেখা হতো।

খ)  মুদ্রাঃ মুদ্রায় রাজার নাম, সন-তারিখ, রাজার মূর্তি, বিভিন্ন দেব-দেবীর ‍মূর্তি খোদাই করা থাকত।

গ) স্থাপত্য-ভাষ্কর্য ও স্মৃতিসৌধ: প্রত্ত্বকেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত প্রাচীন সমাধি, দেব-দেবীর মূর্তি, মৃৎশিল্প, ইত্যাদি।

ঘ) প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ: বগুড়ার মহাস্থানগড়, নরসিংদীর উয়ারী বটেশ্বর ইত্যাদি।

ইতিহাসের প্রকারভেদঃ

ইতিহাসকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। একটি হচ্ছে ভৌগোলিক অবস্তানগত  আর অন্যটি হচ্ছে বিষয়বস্তুগত ইতহাস।

ক) ভৌগোলিক অবস্থানগত দিকঃ সে বিষয়টি ইতিহাসে স্থান পেয়েছে তা কোন প্রেক্ষাপটে রচিত স্থানীয়, জাতীয় না আন্তর্জাতিক? এভাবে ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে শুধূ বোঝার সুবিধার্থে ইতিহাসকে আরও তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- আঞ্চলিক ইতিহাস, জাতীয় ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক ইতিহাস।

খ) বিষয়বস্তগত ইতিহাসঃ কোনো বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে যে ইতিহাস রচিত হয়, তাকে বিষয়বস্তগত ইতিহাস বলে। সাধারণভাবে এক ৫ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- রাজনৈতিক ইতিহাস, সামাজিক ইতিহাস, অর্থনৈতিক ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ইতিহাস এবং সাম্প্রতিক ইতিহাস।

ইতিহাসের গুরুত্বঃ

ইতিহাস এর গুরুত্ব অপরিসীম। মানব সভ্যতা ইতিহাস পড়ে অতীতের ঘটনাবলির দৃষ্টান্ত থেকে শিক্ষা নেয়া যেতে পারে। ইতিহাসের শিক্ষাকে কাজে লাগানো যেতে পারে। ইতিহাস থেকে মানুষ অতীতের ঘটনা জানতে পারে। ইতিহাস পাঠ করে অতীতের ক্রমপরিবর্তন সম্পর্কে জানতে পারে। সত্যনিষ্ঠ ইতিহাস পাঠ করে বাস্তব জীবনে চলার জন্য সর্বোউৎকৃষ্ট শিক্ষা। এই শিক্ষার ফলে বিচার বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়ে এবং দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে সাহায্য করে।

মানবজীবনে ইতিহাস চর্চার গুরুত্ব প্রয়োজনীয়তাঃ

ইতিহাস পাঠ মানুষকে অতীত ও বর্তমান অবস্থা বুঝতে সাহায্য করে। ভবিষৎ সম্পর্কেও বুঝতে সাহায্য করে। ইতিহাস পাঠের মাধ্যমে আমরা মানবসমাজের ক্রমবিকাশ ও সভ্যতার বিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জানতে পারি। তাই দেশ ও জাতির স্বার্থে আমাদের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ইতিহাস পাঠ অত্যান্ত জরুরি।

জ্ঞান ও আত্মমর্যাদার বৃদ্ধি করেঃ অতীতের সত্যঘটনার বর্ণনা মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে আত্মপ্রত্যয়ী এবং আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করে।

সচেতনতা বৃদ্ধি করেঃ ইতিহাস জ্ঞান মানুষকে সচেতন করে তোলে। উত্থান-পতন এবং সভ্যতার বিকাশ ও পতনের কারণগুলো জানতে পরলে মানুষ ভালো-মন্দের পার্থক্যগুলো খুব সহজেই বুজতে পারে যে কোনটি ভালো বা মন্দ। এতে করে মানুষের ভালো-মন্দের সচেতনাতা বৃদ্ধি পায়।

দৃষ্টান্তের সাহায্যে শিক্ষা দেয়ঃ ইতিহাসের ব্যবহারিক গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষ ইতিহাস থেকে বিভিন্ন ঘটনাবলির দৃষ্টান্ত থেকে শিক্ষা নিতে পারে। ইতিহাস শিক্ষা বর্তমানে আমরা কাজে লাগাতে পারি। ইতিহাস শিক্ষা পাঠ করলে বিচার-বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়ে এবং দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে সাহায্য করে। যার ফলে চর্চার প্রতি আগ্রহ জন্মে।

 

This Post Has 15 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Close search
Cart
Back To Top
×Close search
Search
x